Homeযশোর খবরঅস্বচ্ছল প্রতিবেশীদের বাড়ি গরুর মাংস পৌঁছে দিলো ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’

অস্বচ্ছল প্রতিবেশীদের বাড়ি গরুর মাংস পৌঁছে দিলো ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’

Share

যশোরের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ টাকা। এই দামে মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হাসিনা বেগমের। সর্বশেষ গত কুরবানি ঈদে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দেওয়া কোরবানির পাওয়া মাংসই খেয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন থেকে বিনামূল্য গরুর মাংস পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন এই নারী।

হাসিনা বেগম বলছিলেন, ‘স্বামী ও সন্তান নেই। একমাত্র প্রতিবন্ধী নাতনি নিয়েই কোন রকম বেঁচে আছি। ঠিক মতো খেতেই পারেনা; তা ঈদ করবো কি করে! গরীর মানুষ গত কুরবানিতে গরুর মাংস খেয়েছি আর খেতে পারিনি দামের কারণে। ঈদের দিন এই গোস্তটুকু পেয়ে খুব খুশি লাগছে। ঈদের দিন নাতনিরে রান্না করে দিবো এটা ভাবতেই খুব খুশি লাগছে।

সারাবছর এভাবেই আমাদের মতো গরীবদের দিতে পারে সেই দোয়া করি।’ হাসিনার মতো শহরের শংকরপুর এলাকার ৬০ হতদরিদ্র পরিবার পেয়েছে বিনামূল্য গরুর মাংস। এলাকার সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও চাকুরিজীবীদের নিয়ে গঠিত ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’ ঈদের আগে ‘অস্বচ্ছল প্রতিবেশীদের জন্য ঈদ উপহার’ শিরোনামে গরুর মাংস বিতরণ করেছে।

বিতরণ করার আগে সংগঠনের সদস্যরা বাজার থেকে গরু কিনে কার্যালয় চত্বরে জবাই করেন। এরপর মাংস প্রস্তুত করে প্যাকেজজাত করে বাড়ি বাড়ি এসব পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। প্যাকেজজাত করা এসব গরুর মাংসের প্যাকেট ভুক্তভোগীরা পাওয়ার আগেও জানতেন না তারা গরুর মাংস পাবেন। হঠাৎ করেই রমজানের শেষ বিকালে দুয়ারে দুয়ারে এভাবে গরুর মাংস পেয়ে অনেকেই যেমন খুশি হয়েছেন; তেমনি আবেগে আপ্লæত হয়ে পড়েন কেউ কেউ।

তেমনি একজন নারী রেহেনা পারভীন। তার স্বামী বেজপাড়া খবরস্থানের খাদেম। বাড়িতে হঠাৎ করে এভাবে মাংস পেয়ে তিনি আপ্লæত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘গত বছরও ঈদের আগে এই সংগঠনের লোকজন আমাদের গরুর মাংস এবং ঈদ সামগ্রী দিয়েছিল। এ বছরও দিয়েছে। আমাদের সামর্থ্য নেই গরুর মাংস কেনার। তাদের এই সহযোগিতা পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’

ঈদ উপহার প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোরের সভাপতি মাহমুদ এলাহী মানু, সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বাবু, যুগ্ম সম্পাদক- ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু, কোষাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম মিঠুন মোল্লা, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক হোসেন, সাকিব হাসান, ইমরান কবির প্রমুখ।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ বলেন, ‘ঈদের দিন আমরা অনেকেই গরুর মাংস বা ভালো খাবার খাবো। কিন্তু আমাদের অনেক প্রতিবেশি আছে এসব খেতে পারবে না। তাই প্রতিবছর আমরা মাংসসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী দিয়ে থাকি। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হিসাবে গরুর মাংস দিয়েছি। এর কারণ অনেকেই দামের কারণে গরুর মাংস খেতে পারে না। আমি আশা করবো সমাজের অন্যরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের পাশের দরিদ্র পরিবারগুলো ঈদ কিংবা অন্য উৎসব এলে ভালো খেতে ও থাকতে পারবে। আমাদের এই কাজে সংগঠনের সব সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষী লোকজন সহযোগিতা করেছে।’

সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ এলাহী মানু। তিনি বলেন, ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছে। এসব দরিদ্র মানুষের জন্য সবসময় পাশে থাকবে ফ্রেন্ডস ক্লাব। একই সাথে তিনি সমাজে ধনী গরিব বৈষম্য দূরকরণে নিজ নিজ এলাকায় এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করার আহŸান জানান।


Discover more from Jashore Khabor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

@ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।

Table of contents [hide]

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন