ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই আশঙ্কায় জ্বালানি তেল সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধিরও আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। এই ‘হুজুগে’ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার মালিকরা ট্যাংকি ফুল করার চেষ্টা করছেন।
ফলে যশোর জেলাজুড়ে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে। এই অজুহাতে কিছু পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে। আবার কোন কোন পাম্প একশ’ টাকার বেশি পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করছে না বলে অভিযোগ করছেন চালকরা।
তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত তিন দিন ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পাম্পে স্বাভাবিক সরবরাহ দ্রæত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদা প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা। এই কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। কবে নাগাদ এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই।
যশোর শহরের মণিহার এলাকার যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিস’র সহকারী সুপারভাইজার পলাশ জানান, গত কয়েকদিন থেকে পাম্পটিতে প্রচুর ভিড়। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদের সংখ্যাই বেশি। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শংকা থেকে অনেকে বেশি করে তেল কিনছেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এই পাম্পটির সামনে মোটরসাইকেলের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রত্যেকেই ট্যাংকি পুরো ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে ৫ লিটারের ক্যানে করে অতিরিক্ত পেট্রোল নিচ্ছেন। অনেকে হাজির হন ৪০ লিটারের ড্রাম নিয়েও।
রাজিব হাসান নামে এক মোটরসাইকেল চালক অকটেন নিতে এসে বলেন, আমি পাম্পে ১ হাজার টাকার তেল নিতে এসেছিলাম, তারা আমাকে ১০০ টাকার দিয়েছে। এখন এই তেল দিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারবো কিনা বলতে পারছি না। আরেক মোটরসাইকেল চালক কামাল হোসেন বলেন, পাম্পগুলো তেলের দাম বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
ঢাকা রোড তালতলা এলাকার মেসার্স মনিরউদ্দিন আহমেদের ম্যানেজার এএসএম খালিদ জানান, গত বুধবার রাত থেকে অনেক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মোটরসাইকেলের মালিকরা পুরো ট্যাংকি ভরে তেল নিয়ে রাখছেন। এ পাম্পে চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি আধাঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাড়িয়ে আছি, কিন্তু তেল পাইনি।
জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি যশোর জেলা সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, ¯্রফে প্যানিক থেকে মানুষের মধ্যে তেল মজুদ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। দেখা গেছে যে বাইক চালক হাফ বা এক লিটার তেল কিনতেন, তিনিও বাইকের ট্যাংকি ফুল করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ক্যান বা ড্রাম নিয়েও পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

