বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম উচ্চমূল্য।
বাজুসের নতুন ঘোষণা, মঙ্গলবার থেকে কার্যকর
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার থেকেই সারা দেশে নতুন এই স্বর্ণের দাম কার্যকর হবে। ফলে যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের এখন বাড়তি টাকা গুনতে হবে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নতুন দামে কত হলো স্বর্ণের মূল্য
নতুন ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন—
২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা
২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা
১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা
সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা
এই দাম শুনে অনেক ক্রেতাই একটু থমকে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য গহনা কেনার কথা ভাবছিলেন, তাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
স্বর্ণ কিনতে হলে আরও খরচ বাড়বে কেন
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘোষিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ, দোকানে গিয়ে যে দাম শুনবেন, সেটি ঘোষিত মূল্যের চেয়েও বেশি হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘোষিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ, দোকানে গিয়ে যে দাম শুনবেন, সেটি ঘোষিত মূল্যের চেয়েও বেশি হবে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—গহনার ডিজাইন, কারুকাজ ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরি আরও বাড়তে পারে। সাধারণ চেইনের মজুরি এক রকম, আবার ভারী নকশার হার বা চুড়ির মজুরি হতে পারে অনেক বেশি। ফলে চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে গহনার ধরন ও দোকানের ওপর।
আগের দিনের দাম ছিল কত, কতটা বেড়েছে ব্যবধানে
এর আগেও খুব সম্প্রতি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। সেই দাম কার্যকর হয় ৫ জানুয়ারি থেকে।
সেদিন ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৩ টাকা।
অর্থাৎ, মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় বাজারে স্বর্ণের মূল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন বারবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম
স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পড়ছে স্থানীয় বাজারেও। পাশাপাশি ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে বাজুসকে বারবার মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে।
অনেকে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন। যখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন স্বর্ণের চাহিদাও বাড়ে। এই বাড়তি চাহিদাই অনেক সময় দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে এই দাম
এই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ভাবছেন, এখনই কিনে ফেলাই ভালো, কারণ সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। আবার অনেকে অপেক্ষা করছেন, যদি কিছুদিন পর দাম কমে।
যারা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনে থাকেন, তাদের জন্য এই দাম বাড়ার খবর একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে চিন্তারও। কারণ দাম বাড়লে লাভের সম্ভাবনা থাকে, আবার অতিরিক্ত দামে কেনা মানে ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
সামনে কি আরও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম যদি স্থিতিশীল না হয়, তাহলে দেশের বাজারেও দামের ওঠানামা চলতেই পারে। তাই খুব দ্রুত স্বর্ণের দামে বড় ধরনের স্বস্তির আশা করা কঠিন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বেড়ে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো বাজার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
Discover more from Jashore Khabor
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

