রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে এ বছর আনুষ্ঠানিক বই উৎসব অনুষ্ঠিত না হলেও নড়াইলে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম থেমে থাকেনি। বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়।
নতুন বছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বই উৎসব না থাকলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ।
শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নড়াইল জেলায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৪টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ বই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ৩৩ শতাংশ বই খুব শিগগিরই সরবরাহ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নতুন বই সংগ্রহ করছে। শিক্ষকরা বই বিতরণের পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা ও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ দিচ্ছেন। কেউ নতুন বই উল্টে-পাল্টে দেখছে, কেউ আবার সহপাঠীদের সঙ্গে বইয়ের ছবি ও রঙিন প্রচ্ছদ নিয়ে কথা বলছে।
নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দেয়াই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের আনন্দই আমাদের প্রাপ্তি।”
এদিকে অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বছরের শুরুতেই বিনামূল্যের পাঠ্যবই পেলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও আগ্রহী হয়। এতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুটা ভালো হয়।
শিক্ষা বিভাগ আশা করছে, অবশিষ্ট বই দ্রুত সরবরাহ শেষ হলে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের ঘাটতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

