মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেন এক মুহূর্তে চরমে, আর পরের মুহূর্তে কিছুটা নরম। ঠিক এই অবস্থার মাঝেই নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ঘনিষ্ঠ দূত পাকিস্তানে পৌঁছেছেন—উদ্দেশ্য, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা।
এই খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন আশা—হয়তো যুদ্ধের শেষটা কূটনীতির টেবিলেই হতে পারে।
পাকিস্তান নিজেকে এই জটিল পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ সেতুবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছে।
সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মার্কিন দূত Steve Witkoff-এর সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভাবতে পারো, দুই দেশের সম্পর্ক এতটাই তিক্ত যে সরাসরি বসে কথা বলাই কঠিন। সেখানে তৃতীয় কোনো দেশ যদি মাঝখানে এসে কথা বলার সুযোগ করে দেয়, সেটা অনেক সময় বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। ঠিক এই ভূমিকাই নিতে চাইছে পাকিস্তান।
কিছুদিন আগেও Donald Trump সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
কিন্তু হঠাৎ করেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বললেন, ইরান নাকি “আর যুদ্ধ নয়” এবং “আর পারমাণবিক অস্ত্র নয়”—এই ধরনের একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এই পরিবর্তনটা একটু সিনেমার গল্পের মতো লাগে, তাই না? একদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি, আরেকদিকে হঠাৎ শান্তির কথা—এটাই এখনকার বাস্তবতা।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি খাতে হামলা আপাতত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারেও একটা স্বস্তির ছাপ পড়ে—তেলের দাম কিছুটা কমে আসে, শেয়ার বাজারও স্থির হয়।
যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, সেখানে ইরান পুরো বিষয়টাকেই “ভুয়া খবর” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনা হয়নি, বরং এসব খবর ছড়ানো হচ্ছে বাজারকে প্রভাবিত করার জন্য।
ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই তথাকথিত আলোচনা আসলে কল্পনা মাত্র।” এমনকি তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, রাতে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।
এখানেই আসল টানটান উত্তেজনা—একপক্ষ বলছে শান্তির পথে এগোচ্ছে, আরেকপক্ষ বলছে কিছুই হয়নি।
কূটনৈতিক আলোচনার জল্পনার মাঝেও মাটির পরিস্থিতি কিন্তু একদম শান্ত নয়। ইরান আবারও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তেল আবিবও ছিল লক্ষ্যবস্তু।
একই সময়ে কুয়েত ও সৌদি আরবের দিকেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে খবর মিলেছে, যদিও সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিহত করা হয়েছে।
মানে, বাইরে থেকে যতই শান্তির কথা শোনা যাক, ভেতরে ভেতরে যুদ্ধের আগুন এখনও জ্বলছে।
বিশ্ব নেতারা এখন পুরো বিষয়টা খুব সতর্কভাবে দেখছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer বলেছেন, “এটা আমাদের যুদ্ধ নয়”, কিন্তু তিনি সতর্ক করেছেন—এই সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকে নাড়া দিতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই রয়েছেন।
এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার—সবাই শান্তি চায়, কিন্তু কেউই পুরোপুরি ছাড় দিতে রাজি নয়।
খবর এসেছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad-Bagher Ghalibaf-এর সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছেন। এই আলোচনায় তুরস্ক, কাতার ও মিশরও মধ্যস্থতায় যুক্ত থাকতে পারে।
ভাবো তো, এক টেবিলে এত দেশের প্রতিনিধি—প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থ, নিজস্ব চাপ। সেখানে একটা সমঝোতা তৈরি করা কতটা কঠিন!
একদিকে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক প্রস্তুতিও বাড়াচ্ছে। প্রায় ৫,০০০ মার্কিন মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
এটা একটু “এক হাতে আলোচনার প্রস্তাব, আরেক হাতে অস্ত্র”—এই ধরনের কৌশল।
Donald Trump বারবার বলছেন, ইরান নিজেই আলোচনা করতে চেয়েছে। তিনি এটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, একটি ভালো চুক্তি হলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে।
তবে তার কথাবার্তায় একটা অনিশ্চয়তা সবসময় থাকে। যেমন, একদিকে তিনি বলছেন “চুক্তির ভালো সম্ভাবনা আছে”, আবার অন্যদিকে সতর্ক করছেন—না হলে হামলা চলতেই থাকবে।
এটা অনেকটা এমন—কেউ যদি বলে, “চলো মিটমাট করি, না হলে কিন্তু ঝামেলা বাড়বে”—তখন বোঝা কঠিন সে আসলে কতটা সিরিয়াস।
ইসরায়েলের কিছু নেতার মতে, কোনো চুক্তি যদি ইরানের বর্তমান শাসনকে টিকিয়ে রাখে, তাহলে সেটা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
তাদের যুক্তি সহজ—সমস্যার মূল যদি ঠিক না করা হয়, তাহলে সেটি আবার ফিরে আসবেই।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা এখন একদম দোলাচলের মধ্যে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি। একপক্ষ আশার কথা বলছে, আরেকপক্ষ সেটাকে অস্বীকার করছে।
সোজা করে বললে, এখনকার অবস্থা অনেকটা ঝড়ের আগের বা পরের সেই অদ্ভুত নীরবতার মতো—যেখানে বোঝা যায় না সামনে শান্তি আসছে, নাকি আরও বড় ঝড়।
তবে একটা জিনিস পরিষ্কার—যদি এই আলোচনা সত্যিই এগোয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই সেটা বড় স্বস্তির খবর হবে। আর যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এখন সবার চোখ একটাই প্রশ্নে—কূটনীতি জিতবে, নাকি যুদ্ধ?



