যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা রাজবাড়ি গ্রামে একটি চলন্ত মাইক্রোবাসে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়।
মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখায় পুরো মাইক্রোবাসটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। আগুনের তীব্রতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়িটির প্রায় সবকিছু পুড়ে কঙ্কালসার অবস্থায় পরিণত হয়।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিকেলে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা রাজবাড়ি গ্রামে নির্দিষ্ট স্থানে এসে থামে। সেখানে কয়েকজন যাত্রী নামার পর গাড়িটি আবার চলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ঠিক সেই সময় হঠাৎ গাড়ির ইঞ্জিনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুতর মনে না হলেও মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের শিখা দেখা দেয় এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে চালক ও স্থানীয় কয়েকজন লোক মিলে পানির ব্যবস্থা করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ বালু ও মাটি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, সাধারণ প্রচেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন পুরো মাইক্রোবাসটিকে গ্রাস করে ফেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে মাইক্রোবাসটির ইঞ্জিন, সিট, ছাদসহ প্রায় সব অংশ পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার সময় আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুনের তাপ ও ধোঁয়া এতটাই তীব্র ছিল যে অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন। আগুনের ভয়াবহতা দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সৌভাগ্যবশত যাত্রীরা আগেই নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
মাইক্রোবাসটির মালিক পক্ষ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে গাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাড়িটির অধিকাংশ যন্ত্রাংশ ও ভেতরের কাঠামো পুড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত কাজ শুরু করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা ইঞ্জিনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বৈদ্যুতিক লাইনের সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা এড়াতে নিয়মিত সার্ভিসিং, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা এবং জ্বালানি লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষও এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ির মালিক ও চালকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, সামান্য অসতর্কতা বা যান্ত্রিক ত্রুটিই কখনো কখনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্থানীয়রা একে বড় দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পাওয়ার ঘটনা বলেই মনে করছেন।



