পবিত্র ঈদুল ফিতর—শুধু আনন্দের দিন না, এটা আমাদের ভেতরের মানুষটাকে একটু ভালো করে দেখারও সময়। এই উপলক্ষে দেশবাসী এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তায় যেমন ছিল উৎসবের উষ্ণতা, তেমনি ছিল সমাজকে আরও মানবিক ও ঐক্যবদ্ধ করার এক গভীর আহ্বান।
শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) দুপুরে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে বলেন, ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে শুধু আনন্দই আনে না, বরং এটি জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করার একটি সুযোগ।
ভাবো তো, বছরের অন্য সময় আমরা অনেকেই নিজের কাজ, ব্যস্ততা বা সমস্যায় ডুবে থাকি। কিন্তু ঈদের দিনটা এমন, যখন আমরা সবাই একসাথে হই—পরিবার, বন্ধু, এমনকি অনেকদিনের দূরে থাকা মানুষদের সঙ্গেও সম্পর্কটা আবার নতুন করে গড়ে তুলি। প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটাকেই আরও শক্ত করতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রমজান মাসের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের জীবনে শান্তি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।
রমজান শুধু না খেয়ে থাকার নাম না। এটা আসলে নিজের ইচ্ছাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা ট্রেনিং। যেমন ধরো, তুমি খুব রাগ করো—রমজানে সেটা একটু কমানোর চেষ্টা করো। বা কেউ কষ্টে আছে, সেটা একটু বেশি করে অনুভব করো।
এই যে অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখা, এটা কিন্তু খুব বড় একটা বিষয়। প্রধানমন্ত্রী ঠিক এই জায়গাটাতেই জোর দিয়েছেন—তিনি বলেছেন, এই শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে না, রাষ্ট্রীয় জীবনেও কাজে লাগানো দরকার।
একটা সমাজ তখনই সুন্দর হয়, যখন সেখানে মানুষ মানুষকে সাহায্য করে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেছেন, রমজান আমাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করে।
ধরো, তোমার পাশের বাড়ির কেউ হয়তো ঈদের নতুন কাপড় কিনতে পারেনি। তুমি যদি একটু সাহায্য করো, তার মুখে যে হাসিটা আসবে—ওটাই তো ঈদের আসল আনন্দ, তাই না?
এই ছোট ছোট কাজগুলোই সমাজকে বদলে দেয়। আর এই পরিবর্তনটাই তিনি সবার মধ্যে দেখতে চান।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান।
তিনি বলেছেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো—ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা। আসলে ঈদ তখনই পূর্ণ হয়, যখন সবাই মিলে আনন্দটা ভাগ করে নেওয়া যায়।
ভাবো তো, তুমি একা অনেক ভালো কিছু খেলে কেমন লাগে? আর যখন সবাই মিলে খাও, হাসো, গল্প করো—তখন কি আনন্দটা অন্যরকম লাগে না? ঈদও ঠিক তেমনই।
ঈদের আরেকটা বড় শিক্ষা হলো ভ্রাতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেছেন, আমরা যেন সবাই একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলি।
আজকের সময়টা একটু খেয়াল করলে দেখবে—অনেক জায়গায় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মানুষ বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ঈদ আমাদের শেখায়, এসব ভুলে গিয়ে একসাথে থাকতে।
একটা ছোট উদাহরণ দিই—ধরো, কারও সঙ্গে তোমার মনোমালিন্য আছে। ঈদের দিন একটা ‘ঈদ মোবারক’ বলে হাসিমুখে কথা বললে সেই দূরত্বটা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
বার্তার শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন আমরা সম্মিলিতভাবে একটি মানবিক, উন্নত এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করি।
তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও জাতির অগ্রগতি কামনা করেছেন। এই কথাটা শুধু আনুষ্ঠানিক কিছু না—এটা আসলে আমাদের সবার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।
দেশটা শুধু সরকারের না, আমাদের সবার। আমরা যদি নিজেদের জায়গা থেকে একটু ভালো কাজ করি—সৎ থাকি, অন্যকে সাহায্য করি—তাহলেই একটা সুন্দর দেশ তৈরি সম্ভব।



