ফুটবল ভক্তদের জন্য এটা বেশ চমকই বলা যায়। পর্তুগাল জাতীয় দল তাদের সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, কিন্তু সেখানে নেই দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-এর নাম। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি বিশ্বকাপ খেলাও অনিশ্চিত হয়ে গেল?
চল, পুরো বিষয়টা একটু সহজ করে বুঝে নিই।
পর্তুগাল আগামী ২৯ মার্চ মেক্সিকো এবং ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচগুলো আসলে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার একটা বড় সুযোগ।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর জন্য দল ঘোষণা করেছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। কিন্তু স্কোয়াডে রোনাল্ডোর নাম না থাকায় সবাই একটু অবাক।
আসলে এখানে বড় কোনো রহস্য নেই—সবকিছুর পেছনে আছে চোট। সৌদি ক্লাব আল নাসের-এর হয়ে খেলতে গিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে চোট পান রোনাল্ডো। এরপর থেকে তাকে আর মাঠে দেখা যায়নি।
চোট পাওয়ার পর তিনি দ্রুত স্পেনে চলে যান চিকিৎসার জন্য। সেখানে তার রিহ্যাব চলেছে, কিন্তু এখনও পুরোপুরি ম্যাচ খেলার মতো ফিট হননি। শুরুতে মনে করা হয়েছিল, তিনি দ্রুতই ফিরবেন। কিন্তু বাস্তবে সময়টা একটু বেশি লাগছে।
একটা সহজ উদাহরণ দিলে—ধর, তুমি হঠাৎ পায়ে চোট পেলে। প্রথমে ভাবলে এক সপ্তাহে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু পরে দেখা গেল হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছে। ঠিক সেই রকমই ব্যাপারটা।
এখন আসল প্রশ্ন—এই চোট কি বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে?
এই জায়গায় কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বেশ পরিষ্কারভাবে আশ্বাস দিয়েছেন। তার মতে, রোনাল্ডোর চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি বলেছেন, খুব সম্ভবত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই রোনাল্ডো পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন। এমনকি বিশ্বকাপে সেন্টার-ফরোয়ার্ড পজিশনে রোনাল্ডোর জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন তিনি।
তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকবেন তরুণ ফরোয়ার্ড গঞ্জালো র্যামোস।
এখানে আরেকটা বিষয় মাথায় আসতেই পারে—রোনাল্ডোর বয়স এখন ৪১। এই বয়সে ফিটনেস ধরে রাখা সত্যিই কঠিন।
তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে—রোনাল্ডো সাধারণ কোনো খেলোয়াড় নন। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি আলাদা করে পরিচিত। ফিটনেস, ডায়েট, ট্রেনিং—সবকিছুতেই তিনি অনেকটা এগিয়ে।
তাই বয়সটা একটা ফ্যাক্টর হলেও, সেটা একমাত্র সমস্যা নয়।
এই স্কোয়াডে আরেকটা বড় নাম নেই—বার্নার্দো সিলভা।
ম্যানচেস্টার সিটি-এর এই মিডফিল্ডার এই মৌসুমে তেমন ভালো ফর্মে নেই। তবে কোচ মার্তিনেজ বলেছেন, তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি ‘ট্যাকটিকাল’।
মানে, দলের কৌশল অনুযায়ী তাকে এই ম্যাচে রাখা হয়নি।
শুধু পর্তুগাল নয়, ইউরোপের আরেক দল ইতালি নিয়েও চলছে আলোচনা।
দুই বছর পর দলে ফিরেছেন ফেদেরিকো চিয়েসা। তার প্রত্যাবর্তন ইতালির জন্য বড় একটা শক্তি।
কিন্তু তাদের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে প্লে-অফে তাদের খেলতে হবে উত্তর আয়ারল্যান্ড-এর বিপক্ষে।
এই ম্যাচে হারলে টানা তিনবার বিশ্বকাপে না খেলতে পারার লজ্জায় পড়তে পারে ইতালি। ভাবা যায় ব্যাপারটা!
সবকিছু মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার—রোনাল্ডোকে নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি।
হ্যাঁ, তিনি এই প্রীতি ম্যাচগুলো খেলতে পারছেন না, এটা সত্যি। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে তার ফিরে আসার সম্ভাবনাও বেশ ভালো।
ফুটবলে এমন চোট-আঘাত খুবই স্বাভাবিক। বড় খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও এটা ঘটে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো—তারা কত দ্রুত এবং কত ভালোভাবে ফিরে আসতে পারেন।
রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে ইতিহাস বলে, তিনি বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসেছেন। তাই এবারও ভক্তরা আশা করতেই পারে—তিনি আবার মাঠে নামবেন, গোল করবেন, আর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
তাই এখন শুধু অপেক্ষা… আবার সেই পরিচিত উদযাপন দেখার জন্য।



