দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে ৩৩ রানের জয়ে প্রোটিয়ারা প্রমাণ করে দিল, তাদের বেঞ্চ শক্তিও কতটা গভীর।
ম্যাচটি শুধু জয়-পরাজয়ের কারণে নয়, বরং নিউজিল্যান্ডের নিক কেলির এক অসাধারণ ক্যাচের জন্যও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
পঞ্চম ও শেষ ম্যাচের আগে দুই দলই সমানভাবে লড়াই করে সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ছিল। ফলে শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে একেবারে ফাইনালের মতো। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তারা চাপ সামলে নিজেদের ছন্দে খেলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নিজেদের করে নেয়।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। তাদের লক্ষ্য ছিল শুরুতেই চাপ তৈরি করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কম রানে আটকে রাখা। শুরুতে সেই পরিকল্পনা কিছুটা সফলও হয়, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি ধীর ছিল।
প্রথম ধাক্কা আসে টনি ডি জর্জির উইকেট হারানোর মাধ্যমে। তিনি মাত্র ১২ রান করে ফিরে যান। তবে এরপর পরিস্থিতি সামাল দেন উইয়ান মুল্ডার ও রুবিন হারমান। তারা ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন এবং স্কোরবোর্ড সচল রাখেন।
মুল্ডার ৩১ রান করে আউট হলেও রুবিন হারমান দলের হাল ধরে রাখেন। তিনি ৩৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। কিন্তু আসল ঝড় তোলেন কোনর এস্তারহুইজ়েন। তিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন এস্তারহুইজ়েন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা। শেষের দিকে ডিয়ান ফরেস্টারও ১৩ বলে ২১ রান করে দলের সংগ্রহ আরও মজবুত করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ১৮৭/৪ রান, যা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক স্কোর।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ওপেনার কেটেন ক্লার্ক মাত্র ২ রান করে আউট হন। এরপর কিছু ব্যাটার ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
টিম রবিনসন ২৫ রান করেন, বিভান জেকবস ৩৬ রান করেন এবং জিমি নিশাম ২৪ রান করে আউট হন। কিন্তু কেউই ইনিংসকে লম্বা করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় নিউজিল্যান্ড।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৫৪/৮ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে ৩৩ রানের ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা পুরো ম্যাচে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখান। তারা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন।
জেরাল্ড কোয়েৎজ়ি, উইয়ান মুল্ডার এবং ওটনিল বার্টম্যান প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। তাদের ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক বোলিং নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি।
যদিও ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে, তবুও নিউজিল্যান্ডের নিক কেলির একটি ক্যাচ সবার নজর কেড়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১৬তম ওভারে এই অসাধারণ মুহূর্তটি ঘটে।
বেন সিয়ার্সের করা বলে রুবিন হারমান একটি বড় শট খেলতে যান। তবে বলটি ঠিকমতো ব্যাটে লাগেনি এবং আকাশে উঠে যায়। মিড-অফ থেকে মিড-অন অঞ্চলের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে অবিশ্বাস্যভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁ হাতে ক্যাচটি ধরেন কেলি।
এই ক্যাচটি শুধু কঠিনই ছিল না, বরং তার দৌড়, টাইমিং এবং একহাতে বল ধরার দক্ষতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ম্যাচ হারলেও এই ক্যাচের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
এই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের মূল দলের অনেক তারকা খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নেমেছিল। তবুও তারা যেভাবে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা প্রমাণ করে দেয় তাদের স্কোয়াডের গভীরতা কতটা শক্তিশালী।
তরুণ এবং কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে এস্তারহুইজ়েনের ইনিংস এবং বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।



