রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়া বাসটি তোলা হয়েছে। বাসটি তোলার পর এখন পর্যন্ত সেটি থেকে ১৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ লাশ উদ্ধারের হয়েছে বলে জানাগেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানির নিচে থাকা বাসটি তোলা হলে একের পর এক লাশ বের করতে থাকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে।
বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোয়া ৫টার দিকে বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দেরিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উদ্ধারকাজ দেরি হওয়ার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে ছিল উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। সেখান থেকে ৩ নম্বর ঘাটে আসতে দুই মিনিটের পথ। অথচ এক ঘণ্টা পর হামজা ঘটনাস্থলে আসে।
এরপর তার টানতে এবং হামজার অবস্থান নির্ণয় করতে আরও এক ঘণ্টা লেগে যায়। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারেনি। রাত ৯টার দিকে বৃষ্টি থামলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহন নামে বাসটি কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে।
বুধবারও দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কুমারখালী থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজাও যোগ দেয়।
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনালে অবস্থিত বাসটি কাউন্টার মাস্টার তন্ময় শেখ বলেন, দুপুরে বাসটিতে ছয় জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়।
এরপর খোকসা থেকে সাত জন, মাছপাড়ায় চার জন, পাংশায় ১৫ জন ওঠেন। ইঞ্জিন কাভারেও চার জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া গোয়ালন্দ ঘাটে কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীসহ বাসে কমপক্ষে ৫০ জন ছিলেন।
কাউন্টার মাস্টারের ভাষ্য, ৪৫ সিটের বাস হলেও ৫০ জন ছিলেন। আবার ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমেও যান। ফলে নদীতে পড়ার সময় কত জন যাত্রী ছিলেন সেটি নিশ্চিত নয়।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’
বাস নদীতে পড়ার কয়েকজন নেমে গেছেন। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন সাঁতরে ঘাটে উঠেছেন। ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধারদের মধ্যে নুসরাত (২৯) নামের এক নারী গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।


