Homeআবহাওয়াদার্জিলিঙে বরফ পড়বে? কুয়াশার হলুদ সতর্কতা, বৃষ্টি ও তাপমাত্রার সম্পূর্ণ রিপোর্ট

দার্জিলিঙে বরফ পড়বে? কুয়াশার হলুদ সতর্কতা, বৃষ্টি ও তাপমাত্রার সম্পূর্ণ রিপোর্ট

আবহাওয়া এখন একটু খামখেয়ালি। সকালে ঠান্ডা, দুপুরে গরম, পাহাড়ে বরফ, সমতলে কুয়াশা। তাই বাইরে বেরোনোর আগে একবার আকাশের খবর দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Share

শীত কি তবে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে? নাকি শেষ মুহূর্তে আবার চমক দিতে চলেছে পাহাড়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আবহাওয়া নিয়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় বদল আসতে চলেছে। দার্জিলিঙে তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে হালকা বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার সতর্কতা। এর প্রভাব পড়বে দক্ষিণবঙ্গেও, এমনকি কলকাতার আবহাওয়াতেও চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালের দিকে ঘন কুয়াশার হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর এই তালিকায় রয়েছে। এই সব এলাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন হতে পারে যে দৃশ্যমানতা অনেক কমে যাবে।

কুয়াশার পাশাপাশি রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও। আবহাওয়া দফতরের মতে, দার্জিলিঙে হালকা তুষারপাত হতে পারে। পাহাড়প্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় খবর। একই সঙ্গে কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে দু’-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আবহাওয়া পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। উত্তর-পশ্চিম ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি সক্রিয় পশ্চিমি ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে। শুক্রবার আরও একটি নতুন পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ঢুকতে পারে। এর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর থাকা একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই সব মিলেই উত্তরবঙ্গে আর্দ্রতা বেড়েছে। ফলে বৃষ্টি, তুষারপাত এবং কুয়াশার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে।

দার্জিলিঙে তুষারপাতের সম্ভাবনা শুনে অনেকেই উচ্ছ্বসিত। শীতের শেষ লগ্নে পাহাড়ে বরফ পড়া মানে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। তবে আবহাওয়া দফতর সতর্ক থাকতে বলেছে। তুষারপাতের সঙ্গে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস চললে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে। পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের সময় সাবধানতা জরুরি।

যাঁরা আগামী কয়েক দিনে দার্জিলিং বা আশপাশের এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত কুয়াশার দাপট বজায় থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় সকালবেলা ঘন কুয়াশা দেখা যাবে। দিনের বেলা অবশ্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।

দক্ষিণবঙ্গেও এর প্রভাব পড়বে। দক্ষিণের সাত জেলায় সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা নেমে আসতে পারে ৯৯৯ মিটার থেকে মাত্র ২০০ মিটারে। বিশেষ করে ভোরবেলা গাড়ি চালানো বা ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

আনুষ্ঠানিক ভাবে শীতের বিদায়পর্ব ঘোষণা না হলেও দক্ষিণবঙ্গে পারদ ধীরে ধীরে চড়ছে। রাতের শেষ দিকে কিংবা ভোরে হালকা শীত শীত ভাব থাকছে। কিন্তু সকাল বাড়তেই রোদের তেজে গরম অনুভূত হচ্ছে।

এই দ্বৈত অনুভূতিই এখন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য। শীতের জামা সকালে দরকার হলেও বেলা বাড়তেই তা খুলে ফেলতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, যেন একদিনে দুই ঋতুর স্বাদ মিলছে।

কলকাতার আবহাওয়াতেও বড় কোনও চমক নেই বলে জানিয়েছে আলিপুর। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি স্বাভাবিকের থেকে ২.১ ডিগ্রি বেশি। আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য বেশি।

আগামী কয়েক দিনে কলকাতার তাপমাত্রায় বড়সড় কোনও পরিবর্তন হবে না। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। দিনের বেলা রোদ ঝলমলে থাকবে। তবে সকালে কুয়াশা কিছুটা ভোগাতে পারে।

এই ধরনের আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনে। সকালের কুয়াশার জন্য অফিসযাত্রীদের বেরোতে একটু দেরি হতে পারে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা দরকার। বয়স্ক মানুষদের ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই ভোরের দিকে গরম পোশাক ব্যবহার করাই ভালো।

কৃষকদের জন্যও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। হালকা বৃষ্টি কিছু ফসলের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতা সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই আবহাওয়ার খবর মাথায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শীত জাঁকিয়ে ফিরছে না ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি বিদায়ও নিচ্ছে না। পাহাড়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা শীতপ্রেমীদের আনন্দ দেবে। আবার কুয়াশা ও বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তিও হতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে বঙ্গের কোথাও তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাই হঠাৎ গরম বা তীব্র ঠান্ডার আশঙ্কা নেই। তবে কুয়াশার দাপট মাথায় রেখে সাবধান থাকাই বুদ্ধিমানের।

শেষ কথা একটাই—আবহাওয়া এখন একটু খামখেয়ালি। সকালে ঠান্ডা, দুপুরে গরম, পাহাড়ে বরফ, সমতলে কুয়াশা। তাই বাইরে বেরোনোর আগে একবার আকাশের খবর দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন