Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডক্রিকেটবিরাটদের পর স্মৃতিরা! মেয়েদের আইপিএলেও চ্যাম্পিয়ন RCB, আবার হতাশ দিল্লি

বিরাটদের পর স্মৃতিরা! মেয়েদের আইপিএলেও চ্যাম্পিয়ন RCB, আবার হতাশ দিল্লি

Share

মেয়েদের আইপিএলে যেন দিল্লি ক্যাপিটালসের কপালে ফাইনালের আক্ষেপই লেখা আছে। টানা চার বার ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর হল না। আবারও শেষ হাসি হাসল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। স্মৃতি মন্ধানার ব্যাটে ভর করে মহিলা আইপিএলের মুকুট দ্বিতীয় বার উঠল বেঙ্গালুরুর মাথায়। ইতিহাস গড়ে একই মরসুমে পুরুষ ও মহিলা আইপিএলের ট্রফি জিতল আরসিবি।

ফাইনালের আগে থেকেই নজর ছিল স্মৃতি মন্ধানার দিকে। গ্রুপ পর্বে দিল্লির বিরুদ্ধে ৯৬ রান করেছিলেন তিনি। সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছিল। ফাইনালেও শতরান হল না, কিন্তু দলকে জিতিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তিনি ঠিকই পালন করলেন। ২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪১ বলে ৮৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন স্মৃতি। এই ইনিংসেই বোঝা গেল, বড় মঞ্চে কীভাবে দায়িত্ব নিতে হয়।

ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়, বিয়ের ভাঙন, চারপাশের আলোচনা—কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। ক্রিকেটই তাঁর আশ্রয়, ক্রিকেট দিয়েই জবাব দিলেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করলেন, মানসিক দৃঢ়তা থাকলে সব বাধা পার করা যায়।

দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে এই ফাইনাল ছিল নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৩ রান তোলে তারা। মহিলা আইপিএলের ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ দলগত রান। লিজেল লি আর শেফালি বর্মা শুরুটা ধীরগতিতে করলেও মাঝের ওভারে ম্যাচের রং বদলান জেমাইমা রদ্রিগেজ ও লরা উলভার্ট।

জেমাইমার ৩৭ বলে ৫৭ রান ছিল ইনিংসের প্রাণ। অন্য দিকে উলভার্ট ২৫ বলে ৪৪ রান করে দলকে শক্ত ভিত দেন। শেষদিকে শিনেল হেনরির আগ্রাসী ব্যাটিং দিল্লির রান ২০০ পেরিয়ে নিয়ে যায়। ১৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে তিনি প্রমাণ করেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা জরুরি।

রান খরচ হলেও লরেন বেলের বোলিং আলাদা করে নজর কাড়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ১২৮টি ডট বল করে তিনি নতুন রেকর্ড গড়েন। ফাইনালেও ১৯ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভার করেন। যদিও অন্য বোলারেরা মাঝেমধ্যে লাইন-লেংথ হারিয়েছিলেন, তবু চাপের মুহূর্তে বেঙ্গালুরু নিজেদের ধরে রাখে।

বডোদরার মাঠে এই মরসুমে ১৬০ রানের বেশি তাড়া করে জেতা প্রায় অসম্ভবই ছিল। তার উপর ফাইনাল, সামনে ২০৪ রানের পাহাড়। শুরুতেই গ্রেস হ্যারিস আউট হওয়ায় চাপ বাড়ে। কিন্তু স্মৃতি মন্ধানা ও জর্জিয়া ভল যেন অন্য গল্প লিখতে নেমেছিলেন।

দু’জনেই শুরু থেকে রান তুলতে থাকেন। পাওয়ার প্লে পুরোপুরি কাজে লাগান। ভলের স্ট্রাইক রেট ছিল চোখে পড়ার মতো। স্মৃতি প্রথমে সামলে খেললেও পরে নিজের স্বভাবসিদ্ধ আগ্রাসন দেখান। মাঠে তখন মনে হচ্ছিল, চাপটা ধীরে ধীরে দিল্লির কাঁধেই চলে যাচ্ছে।

এই জুটি ছিল ফাইনালের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। ৯২ বলে ১৬৫ রানের পার্টনারশিপ, যা চলতি আইপিএলের প্রথম শতরানের জুটি। ভল করেন ৫৪ বলে ৭৯ রান। স্মৃতি অর্ধশতরান করেন মাত্র ২৪ বলে। প্রতি ওভারে ১০ রানের বেশি উঠছিল, আর দিল্লির বোলারেরা উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

ফিল্ডিংয়েও ভুল হতে থাকে। সহজ ক্যাচ পড়ে যায়। অভিজ্ঞ বোলারেরা ভুল জায়গায় বল ফেলেন। এই ছোট ছোট ভুলই বড় ম্যাচে বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।

ভলের আউটে কিছুটা আশার আলো দেখে দিল্লি। রিচা ঘোষ দ্রুত ম্যাচ শেষ করতে এসে আউট হন। শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ১৮ রান। সেই সময় আউট হন স্মৃতিও। মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচ ঘুরে যেতে পারত। কিন্তু ভাগ্য আর চাপ দুটোই তখন বেঙ্গালুরুর পক্ষে।

রাধা যাদবের সহজ ক্যাচ ফস্কে যায়। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় দিল্লির জন্য। পর পর দু’টি চার মেরে ২ বল বাকি থাকতেই বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে দেন রাধা। মাঠজুড়ে তখন উল্লাস, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, ডাগআউটে আবেগের বিস্ফোরণ।

এই জয়ের ফলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এক অনন্য নজির গড়ল। একই বছরে পুরুষ ও মহিলা আইপিএলের ট্রফি জয়। স্মৃতি মন্ধানার নেতৃত্বে মহিলা দল দ্বিতীয় বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তিনি কোহলিদের থেকেও এগিয়ে গেলেন ট্রফির সংখ্যায়।

অন্য দিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের সামনে আবারও বড় প্রশ্ন। চার বার ফাইনাল, চার বারই হার। দল হিসেবে শক্তিশালী হয়েও কেন শেষ ধাপে এসে আটকে যাচ্ছে তারা, সেই উত্তর খুঁজতেই হবে।

এই ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ ছিল না। এটা ছিল মানসিক শক্তি, নেতৃত্ব আর চাপ সামলানোর পরীক্ষা। স্মৃতি মন্ধানা দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে ব্যক্তিগত ঝড়ের মাঝেও পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে হয়। আরসিবি প্রমাণ করল, সঠিক পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে ইতিহাস গড়া যায়। দিল্লির জন্য এই হার বেদনাদায়ক, কিন্তু হয়তো এখান থেকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন