Homeমিস করবেন নাপিঠে সুড়সুড়ি দিলেই ঘণ্টায় আয় ৯০০০ টাকা! কী এই ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’

পিঠে সুড়সুড়ি দিলেই ঘণ্টায় আয় ৯০০০ টাকা! কী এই ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’

এবার ভাবুন তো, এই পিঠ চুলকানোই যদি পেশা হয়ে যায়? অবাক লাগছে? শুনতে মজার হলেও বিষয়টা একদম বাস্তব। আর এই পেশা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

Share

পিঠে চুলকানি হলে কী হয়, সেটা আমরা সবাই জানি। যতক্ষণ না ঠিক জায়গায় হাত পৌঁছচ্ছে, ততক্ষণ অস্বস্তি কাটে না। বাড়িতে থাকলে তো কারও না কারও দিকে তাকিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, “একটু পিঠটা চুলকে দেবে?” আর কেউ না থাকলে ভরসা কাঠের হাত বা চিরুনি।
এবার ভাবুন তো, এই পিঠ চুলকানোই যদি পেশা হয়ে যায়? অবাক লাগছে? শুনতে মজার হলেও বিষয়টা একদম বাস্তব। আর এই পেশা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

এই অদ্ভুত কিন্তু লাভজনক পেশার নাম ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’। বিদেশে এখন এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে।

কী এই স্ক্র্যাচ থেরাপি

স্ক্র্যাচ থেরাপি মানে শুধু এলোমেলো ভাবে পিঠ চুলকানো নয়। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত থেরাপি। এখানে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট খুব ধীরে, খুব যত্ন নিয়ে নখের হালকা স্পর্শ ব্যবহার করেন। পিঠ, ঘাড়, মাথার ত্বক বা কখনও পুরো শরীর জুড়ে এই থেরাপি করা হয়।

অনেকে এটাকে ম্যাসাজের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু পার্থক্য আছে। ম্যাসাজে চাপ দেওয়া হয়। আর স্ক্র্যাচ থেরাপিতে থাকে নরম স্পর্শ আর সুড়সুড়ির অনুভূতি। যেন কেউ আলতো করে নখ বুলিয়ে দিচ্ছে, ঠিক সেই রকম।

কোথায় জনপ্রিয় হচ্ছে এই পেশা

নিউ ইয়র্ক সিটির মতো বড় শহরে স্ক্র্যাচ থেরাপি এখন ট্রেন্ড। সেখানে আলাদা স্টুডিয়ো আর স্পা রয়েছে, যেখানে শুধুই স্ক্র্যাচিং সেশন করা হয়। গ্রাহকেরা ঠিক যেভাবে ফেসিয়াল বা ম্যাসাজের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন, সেভাবেই স্ক্র্যাচ থেরাপির বুকিং করেন।

এক ঘণ্টার সেশনের জন্য থেরাপিস্টরা প্রায় ১০০ ডলার নেন। ভারতীয় বা বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসেব করলে সেটা প্রায় ৯ হাজার টাকা। দিনে কয়েকটি সেশন হলেই ভালো অঙ্কের আয় হয়ে যায়।

কেন মানুষ স্ক্র্যাচ থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন

আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না, হালকা স্পর্শ শরীর আর মনে কতটা প্রভাব ফেলে। স্ক্র্যাচ থেরাপির মূল কাজই হল স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের উপর নখের হালকা আঁচড় মস্তিষ্কে আরামের বার্তা পাঠায়। এই সময় শরীর থেকে এন্ডরফিন আর সেরোটোনিনের মতো হরমোন বের হয়। এগুলোকে অনেক সময় ‘হ্যাপি হরমোন’ বলা হয়।

ফলাফলটা খুব সাধারণ।
মন হালকা লাগে।
চাপ কমে।
ঘুম ভালো হয়।

অনেকেই বলেন, এক ঘণ্টার স্ক্র্যাচ থেরাপি নাকি কয়েক ঘণ্টার গভীর ঘুমের মতো কাজ করে।

মানসিক চাপ কমাতে স্ক্র্যাচ থেরাপির ভূমিকা

আজকের জীবনে স্ট্রেস যেন নিত্যসঙ্গী। কাজের চাপ, মোবাইল, স্ক্রিন টাইম, ঘুমের অভাব—সব মিলিয়ে মাথা কখনও শান্ত থাকে না। এই জায়গাতেই স্ক্র্যাচ থেরাপি আলাদা করে নজর কাড়ছে।

এখানে চুলকানি সারানো মূল লক্ষ্য নয়। বরং লক্ষ্য হল মানসিক আর শারীরিক শিথিলতা। অনেক গ্রাহক বলেন, সেশনের কয়েক মিনিট পরই চোখ ভারী হয়ে আসে। কেউ কেউ সেশন চলাকালীন ঘুমিয়েও পড়েন।

স্ক্র্যাচ থেরাপিস্ট হতে কী লাগে

এই পেশায় ঢুকতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণ দরকার। নিউ ইয়র্কে অনেকে অনলাইন আর অফলাইন কোর্সের মাধ্যমে স্ক্র্যাচ থেরাপি শিখছেন। এই কোর্সগুলোর খরচ আনুমানিক ২০ থেকে ২১ হাজার টাকার মধ্যে।

কোর্সে শুধু স্ক্র্যাচ করার কৌশল শেখানো হয় না।
শেখানো হয় স্বাস্থ্যবিধি।
নখ পরিষ্কার রাখা।
জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার।
গ্রাহকের ত্বকের নিরাপত্তা।

কারণ এখানে সরাসরি মানুষের শরীরের সঙ্গে কাজ করতে হয়। একটু অসাবধান হলেই ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক আর ইউটিউবে স্ক্র্যাচ থেরাপির ভিডিও এখন ভাইরাল। নখের শব্দ, ধীরে ধীরে চুলকানো—এই ভিডিওগুলো অনেকের কাছে ভীষণ শান্তিদায়ক লাগে। অনেকেই এটাকে ASMR কনটেন্ট হিসেবেও দেখেন।

এই ভাইরাল ভিডিওগুলোই স্ক্র্যাচ থেরাপিকে মূল স্রোতে নিয়ে এসেছে। আগে যা ছিল অদ্ভুত ধারণা, এখন সেটাই ট্রেন্ডিং পেশা।

পুরো শরীরের স্ক্র্যাচ থেরাপি

অনেকে শুধু পিঠে নয়, পুরো শরীরেই স্ক্র্যাচ থেরাপি নেন। মাথার ত্বক, হাত, পা, ঘাড়—সব জায়গায় হালকা স্পর্শ ব্যবহার করা হয়। তবে সব কিছুই গ্রাহকের স্বাচ্ছন্দ্য আর সম্মতির উপর নির্ভর করে।

এই থেরাপি একেবারেই পেশাদার সীমার মধ্যে থাকে। তাই বিদেশে এটি স্পা ইন্ডাস্ট্রির একটি স্বীকৃত অংশ হয়ে উঠছে।

ভবিষ্যতে কি আরও জনপ্রিয় হবে

সব লক্ষণই বলছে, স্ক্র্যাচ থেরাপির চাহিদা আরও বাড়বে। মানুষ এখন দ্রুত আরাম খুঁজছে। ওষুধ নয়, শান্তি চায় স্পর্শে। এই জায়গাতেই স্ক্র্যাচ থেরাপি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ বা ভারতে এখনও এটি নতুন ধারণা। কিন্তু ট্রেন্ড যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এখানেও এই পেশার দরজা খুলে যেতে পারে।

শেষ কথা বললে, পিঠ চুলকানো যে একদিন পেশা হয়ে উঠবে, সেটা আগে ভাবা যায়নি। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। মানুষের প্রয়োজন বদলাচ্ছে। আর সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে স্ক্র্যাচ থেরাপি।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন