বলিউডে কিছু জুটি আছে, যাদের নাম একসঙ্গে এলেই আলাদা করে কিছু বলার দরকার হয় না। ঠিক যেমন শাহরুখ খান আর রানি মুখোপাধ্যায়। এই দু’জন মানেই একসময় মানে ছিল হিট সিনেমা, ভরা প্রেক্ষাগৃহ আর দর্শকের নিঃশ্বাস আটকে যাওয়া ভালোবাসা।
সময় বদলেছে, গল্প বদলেছে। কিন্তু তাঁদের বন্ধুত্ব আর পারস্পরিক সম্মান একটুও কমেনি। তারই প্রমাণ মিলল ‘মর্দানি ৩’ মুক্তির দিনে।
শাহরুখ খান তাঁর বন্ধুকে শুধু শুভেচ্ছাই জানাননি, বরং তাঁকে সম্বোধন করেছেন একেবারে অন্যভাবে। বলেছেন, “আমার মর্দানি।” এই দু’টো শব্দেই যেন লুকিয়ে আছে দশকের বন্ধুত্ব, সম্মান আর গর্ব।
একটা সময় ছিল, যখন শাহরুখ আর রানি মানেই প্রেমের গল্প। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ দিয়ে শুরু। তারপর একের পর এক সিনেমা। ‘চলতে চলতে’, ‘বীর-জারা’, ‘কভি আলবিদা না কহেনা’। প্রতিটা ছবিতে আলাদা আলাদা রসায়ন। দর্শক হলে বসে বিশ্বাস করত, এই জুটি আলাদা হতেই পারে না।
শুধু প্রধান চরিত্রই নয়, ‘কভি খুশি কভি গম’-এ রানির ছোট ক্যামিও চরিত্রও আজও মনে আছে অনেকের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা আলাদা পথে হেঁটেছেন। কিন্তু সম্পর্কটা থেকেছে ঠিক আগের মতোই। সেই বন্ধুত্বই আজও ফুটে উঠছে একে অন্যের সাফল্যে খুশি হওয়ার মধ্যে দিয়ে।
৩০ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘মর্দানি ৩’। এই ছবি শুধু আরেকটা সিক্যুয়েল নয়। এটা রানি মুখোপাধ্যায়ের কেরিয়ারের তিন দশক পূর্তির এক শক্তিশালী ঘোষণা। এই ছবিতে তিনি আবারও ফিরেছেন দাপুটে পুলিশ অফিসার শিবানী শিবাজির চরিত্রে।
খাঁকি উর্দি গায়ে, চোখে আগুন, কণ্ঠে দৃঢ়তা। নারীপাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা এক পুলিশ অফিসারের গল্প বলছে এই ছবি। এমন এক দেশে, যেখানে নারীশক্তিকে পুজো করা হয়, সেখানেই নারীর উপর অত্যাচার কেন? এই প্রশ্নটাই তুলে ধরেছে ‘মর্দানি ৩’।
‘মর্দানি’ সিরিজ শুরু থেকেই শুধু অ্যাকশন দেখানোর জন্য তৈরি হয়নি। এই ছবিগুলো সমাজের অন্ধকার দিক দেখাতে ভয় পায় না। ‘মর্দানি ৩’-এও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নারীপাচারের মতো ভয়ংকর অপরাধকে সামনে এনে রানি আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন, নীরব থাকা মানেই হার মেনে নেওয়া।
এই ছবিতে তাঁর অভিনয়ে আছে রাগ, কষ্ট, মমতা আর অদম্য জেদ। একজন নারী পুলিশ অফিসার কীভাবে নিজের কাজের জন্য সবকিছু বাজি রাখতে পারে, সেটাই দেখিয়েছেন রানি। এই কারণেই তাঁকে বলিউডের প্রকৃত ‘কুইন’ বলা হয়।
এমন শক্তিশালী ছবির মুক্তিতে বন্ধু রানি মুখোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি শাহরুখ খান। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “আমার রানি ‘মর্দানি’কে মন থেকে শুভেচ্ছা। আমি নিশ্চিত, বাস্তবের মতোই পর্দাতেও তুমি তেজস্বী, শক্তিশালী আর সহানুভূতির প্রতীক হয়ে উঠবে।”
এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভক্তরা আবারও দেখলেন, কীভাবে দুই সুপারস্টার একে অন্যের পাশে দাঁড়ান। শাহরুখের কথায় স্পষ্ট, তিনি শুধু একজন অভিনেত্রীকে নয়, একজন বন্ধুকে স্যালুট জানাচ্ছেন।
‘মর্দানি ৩’-এর ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, কীভাবে শিবানী শিবাজি পুরুষতান্ত্রিক পুলিশ ব্যবস্থার চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন। আজকের বলিউডে যেখানে ‘আলফা মেল’ চরিত্রের দাপট, সেখানে একজন নারী অফিসার সামনে এসে পুরো ফোকাস কেড়ে নিচ্ছেন।
রানি এখানে প্রমাণ করেছেন, শক্তি মানে শুধু পেশি নয়। শক্তি মানে সাহস, বুদ্ধি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। যারা ভাবে, রান্নাঘর আর মারপিট একসঙ্গে চলে না, এই ছবি তাদের ধারণা ভেঙে দেয়।
একসময় বলিউডে নারী-প্রধান অ্যাকশন ছবি ছিল বিরল। কিন্তু ‘মর্দানি’ সিরিজ সেই ছবি বদলে দিয়েছে। রানি মুখোপাধ্যায় দেখিয়ে দিয়েছেন, নারী চরিত্র মানেই দুর্বল নয়। তারা চাইলে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। চাইলে পুরো সিনেমা নিজের কাঁধে টানতে পারে।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেই ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে এত উত্তেজনা। বক্স অফিসে ছবিটি কেমন করবে, তা সময়ই বলবে। তবে প্রভাবটা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।
শোনা যাচ্ছে, শাহরুখ খানের আগামী ছবি ‘কিং’-এ নাকি আবার দেখা যেতে পারে রানি মুখোপাধ্যায়কে। সুহানা খানের মায়ের চরিত্রে। যদি সত্যি হয়, তাহলে দর্শকদের জন্য সেটা হবে বড় চমক। বহুদিন পর আবার পর্দায় এই জুটির উপস্থিতি আলাদা আবেগ তৈরি করবেই।
এর আগেও তাঁরা একসঙ্গে জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে উঠেছেন। সেই মুহূর্তে যেমন বন্ধুত্বের উষ্ণতা ছিল, আজও তা অটুট।
‘মর্দানি ৩’ শুধু একটি সিনেমা নয়। এটা এক নারীর সাহসের গল্প। অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার গল্প। আর সেই গল্পের পাশে দাঁড়িয়ে শাহরুখ খানের মতো তারকার স্যালুট ছবিটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
বন্ধুত্ব যদি এমন হয়, তাহলে তা শুধু পর্দায় নয়, বাস্তবেও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। রানি মুখোপাধ্যায় আজ সত্যিই একজন ‘মর্দানি’। আর সেই মর্দানিকেই স্যালুট জানালেন কিং খান।


