Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডটি-টোয়েন্টি সিরিজবাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপ! ১৪ দিনের নোটিশে অপ্রস্তুত স্কটল্যান্ডের অবিশ্বাস্য গল্প

বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপ! ১৪ দিনের নোটিশে অপ্রস্তুত স্কটল্যান্ডের অবিশ্বাস্য গল্প

একদিকে স্পনসরহীন জার্সি, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ। এই দুইয়ের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট। চাপ আছে, দুশ্চিন্তা আছে,

Share

বাংলাদেশের জায়গায় হঠাৎ করেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। শুনতে রোমাঞ্চকর লাগলেও বাস্তবটা মোটেও সহজ নয়। প্রস্তুতি নেই, স্পনসর নেই, এমনকি বিশ্বকাপের আলাদা জার্সিও নেই। মাত্র দুই সপ্তাহের কম সময়ের নোটিশে পুরো একটি দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাকে উলটেপালটে দিয়েছে এই সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের কর্তাদের ঘুম এখন কার্যত উধাও।

প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র ১৪ দিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির চিফ এক্সিকিউটিভ সঞ্জয় গুপ্ত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানানো হয়, বাংলাদেশ না খেলায় তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে অংশ নেবে স্কটল্যান্ড। পরিকল্পনায় ছিল না এমন একটি বড় টুর্নামেন্ট। ফলে মুহূর্তেই অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যায় স্কটিশ ক্রিকেট প্রশাসন।

বিশ্বকাপ মানেই বড় আয়োজন। স্পনসর, জার্সি, ভ্রমণ, ভিসা, টিম ম্যানেজমেন্ট— সব কিছু লাগে নিখুঁত পরিকল্পনায়। কিন্তু স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রে কিছুই আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।

ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ ট্রুডি লিন্ডব্লেড স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন তাঁদের অস্বস্তির কথা। বিশ্বকাপ খেলার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বলে স্পনসর জোগাড় করা হয়নি। এমনকি বিশ্বকাপের জন্য আলাদা জার্সি বানানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

লিন্ডব্লেড বলেন, এত কম সময়ের মধ্যে যদি বিশ্বকাপের জার্সি হাতে পাওয়া যায়, সেটাই হবে বাড়তি প্রাপ্তি। না হলে ক্রিকেটাররা সারা বছর যে জার্সি পরে খেলে, সেটি পরেই বিশ্বকাপে নামতে হবে। স্পনসর পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। হাতে সময় মাত্র সাত দিন। এই অল্প সময়েই সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

স্কটল্যান্ড এই নিয়ে সপ্তমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। অভিজ্ঞতার অভাব নেই। কিন্তু প্রস্তুতির অভাব স্পষ্ট। কারণ এই অংশগ্রহণ কোনো স্বাভাবিক বাছাই প্রক্রিয়ার ফল নয়। এটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ফল।

লিন্ডব্লেড পরিষ্কার করে বলেছেন, তারা কখনোই এভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চাননি। বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট বাছাই পদ্ধতি আছে। কোনো দলই হঠাৎ আমন্ত্রণ পেয়ে খেলতে চায় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রতি তাঁদের গভীর সমবেদনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট অবকাঠামো এখনও খুবই সীমিত। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর ১৯৯৪ সালে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট সদস্য হয় স্কটল্যান্ড। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের জনবল খুব বড় হয়নি।

কোচ, কর্তা, উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং কর্মী মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের কিছু বেশি। এত অল্প লোক দিয়েই একটি দেশের পুরো ক্রিকেট কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। ফলে একসঙ্গে একাধিক দল বিদেশ সফরে গেলে চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এই মুহূর্তে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল খেলছে বিশ্বকাপ। নারী দল নেপাল সফরে রয়েছে এবং তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই পুরুষ দলকে নামতে হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

একই সময়ে তিনটি দলের সব ধরনের লজিস্টিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানো সহজ নয়। তবু দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। আইসিসির আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে লিন্ডব্লেড ও তাঁর দলকে।

এত অপ্রস্তুতির মধ্যেও ক্রিকেট স্কটল্যান্ড পুরোপুরি হতাশ নয়। দলের ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখছেন কর্তারা। স্কটল্যান্ড বর্তমানে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে রয়েছে। দলটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে এবং খেলোয়াড়রা সারা বছরই ম্যাচের মধ্যে থাকে।

লিন্ডব্লেড মনে করেন, মাঠের পারফরম্যান্সে দল পিছিয়ে থাকবে না। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের জন্য খারাপ লাগলেও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে বিশ্বকাপকে দেখছে তারা।

ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি থাকলেও মাঠের বাইরের কাজগুলো বিশাল চ্যালেঞ্জ। খেলোয়াড় ও কোচদের ভিসা করাতে হবে। বিমানের টিকিট কাটতে হবে। হোটেল, অনুশীলন সুবিধা, সরঞ্জাম— সব কিছু খুব অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করতে হবে।

ক্রিকেট স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, এই কাজগুলো ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। হাতে সময় খুব কম। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব কিছু চূড়ান্ত করতে হবে। একটি ছোট প্রশাসনিক দল নিয়ে এত বড় আয়োজন সামলানো যে কতটা কঠিন, তা সহজেই বোঝা যায়।

এই বিশ্বকাপ স্কটল্যান্ডের জন্য শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি এক ধরনের পরীক্ষা। সীমিত সম্পদ, কম জনবল আর অল্প সময়— সব বাধা পেরিয়ে তারা কতটা ভালোভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারে, সেটাই দেখার।

একদিকে স্পনসরহীন জার্সি, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ। এই দুইয়ের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট। চাপ আছে, দুশ্চিন্তা আছে, কিন্তু আছে সুযোগও। আর ক্রিকেটে সুযোগ মানেই কখনো কখনো গল্প বদলে দেওয়ার মুহূর্ত।

এখন দেখার বিষয়, অপ্রস্তুত অবস্থায় বিশ্বকাপে নামা স্কটল্যান্ড মাঠে কীভাবে সেই গল্প লিখতে পারে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন