Homeবিশ্ব সংবাদমাঝ আকাশে ভয়ংকর কাণ্ড! বিমানে পোশাক খুলে তাণ্ডব, ব্যাংককে জরুরি অবতরণ

মাঝ আকাশে ভয়ংকর কাণ্ড! বিমানে পোশাক খুলে তাণ্ডব, ব্যাংককে জরুরি অবতরণ

Share

আকাশে ওড়ার সময় সাধারণত যাত্রীরা নিশ্চিন্ত থাকেন। কেউ গান শোনেন, কেউ ঘুমোন, কেউ জানালার বাইরে মেঘ দেখেন। কিন্তু কখনও কখনও এমন কিছু ঘটে যায়, যা গোটা বিমানের পরিবেশই বদলে দেয়। ঠিক তেমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হলেন একটি আন্তর্জাতিক বিমানের যাত্রীরা। শান্ত ফ্লাইট হঠাৎই পরিণত হয় আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে। এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের জেরে মাঝ আকাশেই জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন পাইলট।

বিমানটি তখন সবে মাটি ছেড়ে আকাশে উঠেছে। গন্তব্য খুব দূরে নয়। যাত্রীরা যে যার মতো নিজের সিটে বসে ছিলেন। প্রথম কয়েক মিনিটে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। কিন্তু হঠাৎ করেই এক যাত্রী নিজের সিট থেকে উঠে দাঁড়ান। শুরুতে কেউ গুরুত্ব দেননি। বিমানে তো মাঝেমধ্যে লোক ওঠে, নামেও, বাথরুমে যায়।

কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই যাত্রী একের পর এক নিজের পোশাক খুলতে শুরু করেন। সবার চোখের সামনে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি প্রায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়েন। পরনে তখন কেবল একটি অন্তর্বাস। চারপাশে বসে থাকা যাত্রীরা হতভম্ব। কেউ চোখ ফেরান, কেউ আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন।

ঘটনা বুঝে দ্রুত ছুটে আসেন বিমানকর্মীরা। তাঁরা শান্তভাবে ওই ব্যক্তিকে বসতে এবং পোশাক পরতে অনুরোধ করেন। বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি বিমানে আছেন এবং এই আচরণ বিপজ্জনক। কিন্তু ওই যাত্রী কারও কথাই শুনতে রাজি হননি।

বরং তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে পড়েন অন্য একটি সিটের ওপর। সেখান থেকে আবার নেমে সোজা চলে যান বিমানের বাথরুমে। কয়েক মিনিট পর বাথরুম থেকে বেরিয়ে তিনি বিমানের বন্ধ দরজার দিকে এগোতে থাকেন। বারবার বলতে থাকেন, কেউ যেন তাঁকে স্পর্শ না করে।

এই পর্যায়ে পরিস্থিতি সত্যিই ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ওই যাত্রী জোর গলায় দাবি করতে থাকেন যে বিমানের দরজা খুলে দিতে হবে। তিনি নাকি নিচে ঝাঁপ দেবেন। বিমানে থাকা সবাই জানেন, আকাশে ওড়ার সময় দরজা খোলা অসম্ভব। তবুও তাঁর এই দাবি যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

বিমানকর্মীরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার শুরু করেন। অন্য যাত্রীরাও তাঁকে বোঝাতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু কোনও কথাই তাঁর মাথায় ঢোকে না। পুরো কেবিন জুড়ে তখন শুধু আতঙ্ক আর চিৎকার।

এই পরিস্থিতিতে আর ঝুঁকি নিতে চাননি পাইলট। যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিমানটি ছিল এয়ার এশিয়ার। ভিয়েতনাম থেকে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই পাইলট সিদ্ধান্ত নেন জরুরি অবতরণের।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের দন মুয়াঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত অনুমতি নিয়ে সেখানেই বিমান নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও ভয় তখনও কাটেনি।

বিমান নিরাপদে অবতরণ করে। সবাই ভেবেছিলেন এবার বুঝি পরিস্থিতি শান্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ওই যাত্রীর আচরণ আরও চরম আকার নেয়। বিমানের দরজায় সিঁড়ি লাগানোর আগেই তিনি হঠাৎ দরজা খুলে দেন। তারপর চোখের পলকে সোজা টারম্যাকে লাফ দেন।

পরনে তখনও কেবল একটি অন্তর্বাস। এই ঝাঁপ দেওয়ার ফলে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন। তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং নিয়ন্ত্রণে নেন।

এই পুরো ঘটনায় বিমানের যাত্রীরা মানসিকভাবে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ জীবনে প্রথমবার এমন দৃশ্য দেখলেন। কেউ ভাবতেই পারেননি একটি স্বাভাবিক ফ্লাইট এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বদলে যাবে। অনেক যাত্রী পরে জানান, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে আতঙ্কে ছিলেন এবং শিশুদের সামলানো সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছিল।

আকাশপথে এমন আচরণ শুধু অস্বস্তিকর নয়, সরাসরি প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। একজন যাত্রীর অনিয়ন্ত্রিত আচরণ পুরো বিমানের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

এই ঘটনার পর আবারও উঠে এসেছে বিমান নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য যাচাইয়ের বিষয়টি। অনেক সময় বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক মনে হলেও কেউ হঠাৎ এমন আচরণ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উড়ানের আগে মানসিক অস্থিরতা বা মাদকাসক্তির প্রভাব থাকলে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

বিমান সংস্থাগুলির জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ আকাশে থাকা অবস্থায় বিকল্প খুবই সীমিত। তবুও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলটের নেওয়া সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন