Homeজাতীয়দুই মাস পর আবার চালু এনআইডি সংশোধন সেবা: নাগরিকদের জন্য স্বস্তির খবর

দুই মাস পর আবার চালু এনআইডি সংশোধন সেবা: নাগরিকদের জন্য স্বস্তির খবর

এনআইডি সংশোধন সেবা আবার সচল হওয়ায় নাগরিক সেবার চাকা নতুন করে ঘুরতে শুরু করেছে।

Share

দীর্ঘ দুই মাস অপেক্ষার পর অবশেষে আবার চালু হলো জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন এই সেবাটি পুনরায় চালু করায় লাখো নাগরিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। রোববার ২৫ জানুয়ারি বিকেল থেকে সাধারণ মানুষ আগের মতোই এনআইডিতে ভুল সংশোধন ও তথ্য হালনাগাদের জন্য আবেদন করতে পারছেন। অনেকের জন্মতারিখ, নামের বানান কিংবা ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আটকে ছিল। এখন সেই জট খুলছে।

অনেকে ভাবছিলেন, হঠাৎ করে কেন এনআইডি সংশোধন বন্ধ করা হলো। বিষয়টি পরিষ্কার করেছে নির্বাচন কমিশন। এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বড় ও জটিল কাজ চলছিল। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন, ওসিভি ও আইপিসিভি কার্যক্রম এবং প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল।

এই কাজগুলো ঠিকঠাকভাবে শেষ করতে এনআইডি ডেটাবেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কারণ একই ডেটাবেজে একসঙ্গে এত বড় কাজ চালাতে গেলে তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারত। সহজভাবে বললে, বাড়িতে বড় সংস্কারের সময় যেমন অতিথি আসা বন্ধ রাখা হয়, ঠিক তেমনই সিস্টেমকে নিরাপদ রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ এখন সফলভাবে শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কাজগুলোও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এনআইডি সংশোধনের জন্য ডেটাবেজ আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন নাগরিকরা আগের নিয়মেই অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এনআইডি এখন প্রায় সব নাগরিক সেবার মূল চাবিকাঠি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, এমনকি সরকারি ভাতার ক্ষেত্রেও এনআইডি অপরিহার্য।

অনেকেই ভাবেন, নামের বানান একটু এদিক-ওদিক হলে কী আসে যায়। বাস্তবে সমস্যা তখনই বোঝা যায়, যখন ব্যাংকে গিয়ে ফর্ম জমা দিতে গিয়ে দেখা যায় এনআইডির নাম আর সার্টিফিকেটের নাম মিলছে না। কেউ কেউ জমি কেনাবেচায় আটকে যান। আবার কেউ সরকারি চাকরির আবেদন করতে গিয়ে বিপদে পড়েন।

এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম চালু থাকায় এখন এসব সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে। জন্মতারিখের ভুল, নামের বানান, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা কিংবা ছবি পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়ম মেনে সংশোধন করা যাবে।

নতুন করে চালু হওয়া এনআইডি সংশোধন সেবায় নির্বাচন কমিশন আগের নিয়মই বহাল রেখেছে। নাগরিকদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকায় অনেকেই ঘরে বসেই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।

তবে নির্বাচন কমিশন সবাইকে সতর্ক করেছে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব কাগজ ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখার পেছনে বড় কারণ ছিল তথ্যের নিরাপত্তা। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনআইডি সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে কমিশন কঠোর অবস্থান নেয়। কারণ এই একটি ডেটাবেজের ওপর পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাই অনেকাংশে নির্ভরশীল।

এখন কার্যক্রম চালু হলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না। সন্দেহজনক আবেদনগুলো আগের মতোই যাচাই-বাছাই করা হবে। এতে সাধারণ নাগরিকের একটু সময় বেশি লাগতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি সবার জন্যই ভালো।

এনআইডি সংশোধন আবার চালু হওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে স্বস্তির কথা জানাচ্ছেন। কেউ বলছেন, দুই মাস ধরে ব্যাংকের কাজ আটকে ছিল। কেউ আবার চাকরির আবেদনের শেষ তারিখ পার হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিলেন।

এই সেবা চালু হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক জট খুলবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি বড় খবর। কারণ চাকরি, উচ্চশিক্ষা এবং বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এনআইডি একটি মৌলিক দলিল।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এনআইডি সেবাকে আরও সহজ ও দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, সময় কমানো এবং ভোগান্তি হ্রাসের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবছে কমিশন।

দুই মাস পর এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম চালু হওয়া নিঃসন্দেহে নাগরিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। যারা এতদিন অপেক্ষায় ছিলেন, তারা এখন নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন। তবে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন করলে সময় নষ্ট হতে পারে। তাই একটু সচেতন হলেই এই সেবা থেকে দ্রুত উপকার পাওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গতি ফেরাবে। এনআইডি সংশোধন সেবা আবার সচল হওয়ায় নাগরিক সেবার চাকা নতুন করে ঘুরতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন