যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৩৮টি চেক জালিয়াতির মামলায় ১১ জনের নামে চার্জশিট দাখিলের পর ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার স্পেশাল (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম এ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম।
আসামিরা হলেন, যশোর শিক্ষাবোর্ডের বরখাস্তকৃত হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, ভেনাস প্রিন্টিং প্রেসের প্রোপাইটার শেখ শরিফুল ইসলাম, শাহীলাল স্টোরের প্রোপাইটর ও সদর উপজেলার হাইকোর্ট মোড় জামরুলতলা এলাকার সিদ্দিক আলীর ছেলে আশরাফুল আলম, নূর এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার ও সদর উপজেলার চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার গাজী আহাদ আলীর ছেলে গাজী নূর ইসলাম, শহরের লোহাপট্টির প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেসের প্রোপাইটার ও সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা দুধলি গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী রুপালী খাতুন, উপশহর এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে সহিদুল ইসলাম, সোনেক্স ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটার ও যশোর উপশহর ই-বøক এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে রকিব মোস্তফা, যশোর শিক্ষাবোর্ডের সহকারী মূল্যায়ন অফিসার ও যশোর শহরের ঘোপ এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আবুল কালাম আজাদ, এই শিক্ষাবোর্ডের নিম্মামান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও সদর উপজেলার মধুগ্রাম এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে জুলফিকার আলী, যশোর শিক্ষাবোর্ডের নিম্মামান সহকারী (চেক ডিসপাচকারী) ও সদর উপজেলার নওদাগ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে মিজানুর রহমান এবং এই শিক্ষাবোর্ডের সাধারণ কর্মচারী (চেক ডেসপাচকারী) ও সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সোহরাওয়াদীর ছেলে কবীর হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ২৫টি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের যশোর বিআইএসই শাখায় পরিচালিত হয়। এর মধ্যে একটি হিসাবের স্বাক্ষরদাতা বোর্ডের সচিব ও চেয়ারম্যান। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত ওই হিসাব থেকে ৩৮টি চেক জালিয়াতি করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন ব্যাংকে এসব চেক জমা দিয়ে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৬ টাকার জায়গায় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ টাকা তোলা হয়েছে। চেকগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারের নামে ইস্যু করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ টি চেক আসামি মো. আব্দুস সালাম গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট ২২টি চেক শেখ শরিফুল ইসলাম কয়েকজন কর্মচারীর সহায়তায় গ্রহণ করেন। এরপর চেকগুলোতে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে লিখে উত্তোলন করেন। এভাবে আসামিরা পারস্পারিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূল টাকার অতিরিক্ত ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।
উল্লেখ্য, এরআগে চেক জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততা না থাকায় এজাহারনামীয় ১নং আসামি যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন ও সাবেক সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলী আর রেজাকে মামলার দায় হতে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়।

