গুজবে কান দেবেন না—দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত আছে: প্রতিমন্ত্রী

0
53
Images 10000 04
গুজবে কান দেবেন না—দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত আছে: প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, বাস্তবে এমন কোনো সংকট নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক আছে। তাই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত না করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাজারে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং বর্তমানে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তার ভাষায়, মানুষের মধ্যে অনেক সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই গুজবের কারণে কেউ কেউ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে জমা করে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। তাই তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার পরামর্শ দেন।

সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। এর ফলে অনেকেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি তেল কিনে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে পাম্পগুলোতে চাপ বাড়ে এবং সাময়িকভাবে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, “যার যতটুকু প্রয়োজন, তিনি ততটুকুই তেল কিনবেন। এতে বাজার স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না।”

সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের আমদানি, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ সবকিছুই নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশে ভবিষ্যতে যাতে জ্বালানি তেলের সংকট না হয়, সে লক্ষ্যেও সরকার পরিকল্পনা করছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করছে।

রেশনিং পদ্ধতি চালু হলে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে সবাই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক দেশেই সংকট বা অনিশ্চয়তার সময়ে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যাতে সবাই সমানভাবে জ্বালানি সুবিধা পায়।

এদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সাময়িকভাবে তেল সরবরাহে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো যাতে সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পেতে পারেন এবং কেউ অতিরিক্ত মজুত করতে না পারেন।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য দৈনিক তেল নেওয়ার নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য দৈনিক ১০ লিটার তেল নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি), যাকে অনেকেই জিপ নামে চেনেন, এবং মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়া যাবে।

পিকআপ ভ্যান বা স্থানীয় বাসগুলো প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান কিংবা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সরকার বলছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। তেল আমদানি থেকে শুরু করে সংরক্ষণ এবং ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

প্রয়োজনে দ্রুত অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে। এতে করে হঠাৎ করে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিশেষ করে শহরের বড় বড় ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত তেলের মজুত এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু সরকারের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের সচেতনতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অযথা বেশি তেল কিনে জমা করলে সাময়িকভাবে বাজারে চাপ তৈরি হয়।

ধরুন, কেউ তার মোটরসাইকেলের ট্যাংকে ২ লিটার তেলেই কয়েকদিন চলতে পারেন। কিন্তু আতঙ্কে যদি তিনি ১০ লিটার কিনে রাখেন, তাহলে অন্য একজন হয়তো প্রয়োজনের সময় তেল পাবেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করা এবং গুজব থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য জ্বালানি তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকারখানা, কৃষি, পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই এর ওপর নির্ভরতা রয়েছে। তাই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সরকারের দাবি, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সরকার সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছে—জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং সবাই সহজেই জ্বালানি সুবিধা পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here