Sign in
  • Click here - to use the wp menu builder
Sign in
Welcome!Log into your account
Forgot your password?
Password recovery
Recover your password
Search
Town Talk
0
Images 10000 01
Town Talk
0
শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬
0
My account
Get into your account.
LoginRegister
Subscribe

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কবিতা, গান, সাহিত্য আর দর্শনের এক বিশাল জগৎ। কিন্তু তাঁর জীবনের ব্যক্তিগত অধ্যায়গুলো নিয়ে আমাদের কৌতূহলও কম নয়। বিশেষ করে তাঁর বিয়ের গল্পটি আজও ইতিহাসপ্রেমী মানুষকে টানে। এই বিয়ের সূত্র ধরেই যশোরের সঙ্গে ঠাকুর পরিবারের আত্মীয়তার যে অধ্যায় শুরু হয়, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

উনিশ শতকের শেষভাগে ঠাকুরবাড়িতে বিয়ের বিষয়টি ছিল খুবই নিয়মবদ্ধ। পরিবারের ছেলেদের সাধারণত অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ব্যতিক্রম। পড়াশোনা, ভ্রমণ আর নিজের মতো করে জীবন দেখার কারণে তাঁর বিয়ে কিছুটা পিছিয়ে যায়। বয়স যখন ২৩ ছুঁয়েছে, তখন পরিবারে চিন্তা বাড়তে থাকে। উপযুক্ত পাত্রী খোঁজা শুরু হলেও কলকাতায় কিংবা আশপাশে তেমন কাউকেই মনঃপূত হচ্ছিল না।

এই পরিস্থিতিতেই ঠাকুর পরিবারের নজর পড়ে যশোর অঞ্চলের দিকে। সে সময় যশোর ছিল শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্য পরিচিত একটি এলাকা। পরিবারের সিদ্ধান্তে ১৮৮৩ সালে শুরু হয় এক বিশেষ যাত্রা। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, তাঁর স্ত্রী কাদম্বরী দেবী এবং আত্মীয়া জ্ঞানদানন্দিনী দেবী একসঙ্গে রওনা দেন যশোরের উদ্দেশে। লক্ষ্য একটাই—রবীন্দ্রনাথের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পাওয়া।

যশোরের নরেন্দ্রপুর ছিল জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর পৈত্রিক গ্রাম। সেখান থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান। রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নি ইন্দিরা দেবী তাঁর স্মৃতিকথা “রবীন্দ্র স্মৃতি”-তে লিখেছেন, কীভাবে তাঁরা নরেন্দ্রপুর, দক্ষিণ ডিহি, চেঙ্গুটিয়া সহ একের পর এক গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। প্রতিটি বাড়িতে আশার আলো নিয়ে ঢুকতেন, আবার নিরাশ হয়ে বেরিয়ে আসতেন।

কোথাও বয়স মিলছিল না, কোথাও পারিবারিক মানসিকতা ঠিক মানানসই হচ্ছিল না। আবার কোথাও গুণ বা শিক্ষা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছিল। এইভাবে দিনের পর দিন খোঁজ চললেও কাঙ্ক্ষিত পাত্রী পাওয়া গেল না।

অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও যখন কোনো সমাধান মিলল না, তখন যশোর যেন হয়ে উঠল “কনের মরুভূমি”। পরিবার বুঝতে পারে, এখানে আর সময় নষ্ট করে লাভ নেই। মন ভার করে সবাই ফিরে আসেন কলকাতায়। বাইরে থেকে দেখলে এই যাত্রা ব্যর্থ মনে হলেও, ইতিহাস বলে অন্য কথা। কারণ এই ব্যর্থতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

কলকাতায় ফিরে আসার পরই ভাগ্য যেন নতুন দরজা খুলে দেয়। ঠাকুর পরিবারের কাছারি বাড়িতে কর্মরত ছিলেন বেনীমাধব রায় চৌধুরী। তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা ভবতারিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিয়ের প্রস্তাব আসে। পারিবারিক পরিচয়, সামাজিক মান এবং ব্যক্তিত্ব—সব দিক বিচার করেই এই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীকালে ভবতারিনী দেবীই মৃণালিনী দেবী নামে পরিচিত হন এবং রবীন্দ্রনাথের জীবনসঙ্গিনী হিসেবে ঠাকুর পরিবারের অঙ্গ হয়ে ওঠেন।

রবীন্দ্র গবেষক প্রভাত মুখোপাধ্যায়ের মতে, যশোর যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল পীরালি ব্রাহ্মণ পরিবারের মধ্য থেকেই পাত্রী নির্বাচন করা। বেনীমাধব রায় চৌধুরীর পরিবারও সেই সামাজিক পরিসরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই সরাসরি যশোরে কনে না পাওয়া গেলেও, যশোরের সামাজিক যোগসূত্রই শেষ পর্যন্ত এই বিয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

সে সময়ে সাধারণত কনের বাড়িতেই বিয়ের আয়োজন হতো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নিজেই ভিন্ন প্রস্তাব দেন। তিনি চান, বিয়ে হবে পাত্রের বাড়িতে, অর্থাৎ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। তবু রবীন্দ্রনাথ তাঁর মতেই অটল থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত সেইভাবেই বিয়ের আয়োজন হয়।

বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে। ঠাকুরবাড়ির ক্যাশবইয়ে আজও সংরক্ষিত আছে সেই সময়ের খরচের বিবরণ। পথ্য খরচ ছিল প্রায় ৬০ টাকা, আর বাড়ি ভাড়ার জন্য খরচ হয়েছিল ২২ টাকা তিন পাই। এই ছোট ছোট হিসাব আমাদের সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতা আর ঠাকুর পরিবারের শৃঙ্খলাবোধের পরিচয় দেয়।

Images 10000 03
ঠাকুর পরিবারের আত্মীয়তার ইতিহাস ও এক ভিন্নধর্মী বিবাহ কাহিনি

বিয়ের আরেকটি মানবিক দিক ছিল নিমন্ত্রণপত্র। রবীন্দ্রনাথ নিজে হাতে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ ভাষা নয়, বরং আন্তরিক অনুরোধে ভরা সেই চিঠিগুলো আজও গবেষকদের কাছে অমূল্য দলিল।

এই বিয়েতে ব্রাহ্ম ধর্মীয় কোনো বিশেষ আচার পালন করা হয়নি। বরং যশোর-খুলনা অঞ্চলের প্রচলিত হিন্দু বিবাহরীতিই অনুসরণ করা হয়। সমাজের বাঁধাধরা গণ্ডির বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই মানসিকতা রবীন্দ্রনাথের চরিত্রের সঙ্গেই মানানসই।
বিয়ের মাত্র নয় দিনের মাথায় ‘সাধারণী’ পত্রিকায় একটি ছোট সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, পাত্রীকে যশোর থেকে আনা হয়েছে। এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে দেয়, রবীন্দ্রনাথের বিয়ের মাধ্যমে ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে যশোরের আত্মীয়তার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

এই বিয়ে শুধু দুইজন মানুষের মিলন নয়। এর মধ্য দিয়ে যশোরের সঙ্গে ঠাকুর পরিবারের একটি স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় আর পারিবারিক বন্ধনের দিক থেকে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিবাহ আমাদের শেখায়, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও কখনো কখনো ইতিহাস তৈরি করে। যশোর যাত্রা, কনে সন্ধান, প্রথা ভাঙা বিয়ে আর নতুন আত্মীয়তার সূচনা—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি বিয়ের গল্প নয়, বরং বাঙালি সমাজের এক অনন্য অধ্যায়।
এই কারণেই যশোরের মাটিতে রবীন্দ্রনাথের কনে সন্ধানের গল্প আজও ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

✍️ জীবনী ও তথ্যসংগ্রহ: রিফাত-বিন-ত্বহা | যশোর 📅 প্রকাশকাল: ৩১ মার্চ ২০২৬

Town Talk
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব সংবাদ
  • ট্রেন্ডিং নিউজ
Pricing Plans

Log In

Don't have an account? Sign up

LogoJashore KhaborKhabor

সম্পাদক ও প্রকাশক : সাজেদ রহমান
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : ৭৩ জেল রোড, যশোর।
মোবাইল : +৮৮-০১৭১১৩৫০৬১৪
ই-মেইল : bokul.jessore@gmail.com

Facebook
Instagram
Myspace
X
WhatsApp
Youtube

আমাদের সম্পর্কে

  • কুকিজ
  • যোগাযোগ
  • প্রিভেসি নীতি
  • ব্যবহারের শর্তাবলী

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

  • সর্বশেষ সংবাদ637
  • যশোর খবর258
  • বিশ্ব সংবাদ155
  • জাতীয়119
  • বিশেষ প্রতিবেদন114
  • নির্বাচন95
© ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য যশোর খবর কতৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে গৃহবধূর ওপর অ্যাসিড হামলা! স্বামী-শ্বশুরসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

এপ্রিল ২, ২০২৬

কেশবপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন পুলিশকে মারপিট করে আসামি ছিনতাই

এপ্রিল ২, ২০২৬
Translate »